Monday, January 30, 2023

সেরিব্রাল পলসিঃ কারন, প্রতিকার ও চিকিৎসা (৩য় পর্ব)

 


সেরিব্রাল পলসিঃ কারন, প্রতিকার ও চিকিৎসা - ২য় পর্বের পর .................

চিকিৎসা পদ্ধতিঃ

বাবা-মা-রাই প্রথম লক্ষ্য করতে পারেন তাঁদের বাচ্চা বেড়ে ওঠার পথের কোনওধাপ পেরোতে অসুবিধাতে পড়ছে কিনা। যদি কোনও ধাপ পেরোতে দেরী হয়, বাবা-মা-রা ভাবতে পারেন তাঁদের সন্তান দেরিতে শুরু করছে ও পরবর্তীকালে ঠিক শিখে যাবে। বাবা-মাকে অবশ্যই পেডিয়াট্রিসিয়ান বা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে এই বিষয়ে অবগতকরা উচিত কোনোরকম দেরী না করে।

সেরিব্রাল পলসিকে সারানো যায় না, কিন্তু এই রোগের উপসর্গগুলি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অনেক চিকিৎসা পদ্ধতির সুবিধা লাভ করা যায়। যদিও, সেরিব্রালপলসি তার ধরণ, আক্রান্ত স্থান বা অক্ষমতার জটিলতা অনুযায়ী আলাদা হতে পারে, একটা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দল একত্রে কাজ করে এই রোগে আক্রান্ত শিশুরবিস্তীর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি স্থির করেন।

পেডিয়াট্রিসিয়ান, নিউরোলজিষ্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, অর্থোটিস্ট (বিকলাঙ্গতা ও অস্থিসন্ধির অসামঞ্জস্যতা যিনি যন্ত্র দ্বারা দূর করতে পারেন), স্পীচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট, অক্যুপেশানাল থেরাপিস্ট বা পেশাদারী শিক্ষা প্রদানের বিশেষজ্ঞ, বিশেষ ধরণের শিক্ষক এবং মানসিক চিকিৎসক, সকলে একজোট হয়ে কাজ করেন জাতে শিশুটি তার সব অক্ষমতার সাথে মানিয়ে যতটা সম্ভব স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে। এক্ষেত্রে সারা বাংলাদেশে ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র সেরিব্রালপলসিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করে আসছে।

  • ফিজিওথেরাপিঃ যখনি একটা শিশু সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত ধরা পরে, সাথে সাথেই এটা শুরু করা উচিত। ফিজিওথেরাপির কাজ হল পেশি-গুলিকে দুর্বল হওয়া, ছোটো হয়ে যাওয়া বা তার কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া থেকে আটকানো। একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বাচ্চাটিকে কিছু শারীরিক কসরত শেখান যা তাঁর পেশিকে মজবুত করে তুলবে। বিশেষ ধরণের হাত বা পা দেওয়া হয় যারব্যবহারের ফলে পেশির প্রসারণ ও অঙ্গভঙ্গির উন্নতি ঘটে।
  • স্পীচ থেরাপিঃ এটা বাচ্চাদের যোগাযোগের ক্ষমতাকে বাড়ায়। শিশুদের কিছু এক্সারসাইজ সেখান হয় যা তাদের পরিষ্কারভাবে কথা বলতে সাহায্য করে। কথাবলার জটিলতা যেখানে বেশি সেখানে বাচ্চাকে যোগাযোগের বিকল্প পদ্ধতি, যেমন ইঙ্গিতের দ্বারা যোগাযোগ, শেখান হয়। বাচ্চার যোগাযোগের জন্য বিশেষ যন্ত্র, যেমন কম্পুটারের সাথে যুক্ত ভয়েস্‌ সিন্থেসাইজার, পাওয়া যায়।
  • অক্যুপেশনাল থেরাপিঃ এই থেরাপিস্ট বাচ্চার রোজকার কাজ, যেমন খাওয়া, জামা কাপড় পরা, টয়লেটে যাওয়া, করতে কি কি অসুবিধা হয় তাচিহ্নিত করে তা থেকে বেড়িয়ে আসার কাজে সহায়তা করেন। অক্যুপেশনাল থেরাপিস্ট বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে আপনার বাচ্চার আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করেন।
  • প্লে থেরাপিঃ এটা হল একটা নতুন পদ্ধতি যেখানে খেলারমাধ্যমে বাচ্চারা আনন্দ পায় এবং এর ফলে তাদের মানসিক বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয়।এটা একটা থেরাপিউটিক ও সাইকোলজিক্যাল পদ্ধতি যেটা বাচ্চাকে অন্যের সাথেযোগাযোগ স্থাপন ও সম্পর্ক স্থাপনে সাহায্য করে। প্লে থেরাপি বাচ্চারশারীরিক সক্ষমতা, সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশে মানসিক চাহিদা ও কাজ করার ক্ষমতা বাড়ায়। এই পদ্ধতি শুরু করা হয় যখন বাচ্চা খুবই ছোটো (০ -২ বছর), কিন্তু এটা বয়ঃসন্ধির সময়ও দরকার। যত তাড়াতাড়ি প্লে থেরাপি চালু করা হয়, বাচ্চা তততাড়াতাড়ি উপকৃত হয়। প্রাথমিক অবস্থাতে শুরু করলে বাচ্চার ব্যবহার থেকে তারঅন্যের সাথে যোগাযোগ সব কিছুরই উন্নতি ঘটায়।
  • কাউন্সেলিংঃ একজন কাউন্সিলার বা সাইকলজিস্ট বাচ্চা ও তার পরিবারের সাথে এই সব অক্ষমতার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
  • বিশেষ ভাবে তৈরি শিক্ষা ব্যবস্থাঃ অক্ষমতা বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা-যুক্ত বাচ্চাদের শেখানোর জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

·         



     একটা বাচ্চার জন্ম হল একটা পর্ব যা অনেক আশা, উত্তেজনা, আনন্দ-উদ্দীপনাতে ভরপুর থাকে। কিন্তু যখন বাবা-মা জানতে পারেন যে তাঁদের বাচ্চার সেরিব্রাল পলসি হয়েছে তখন তা তাঁদের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাঁদের দূরদৃষ্টি একেবারেই পরিবর্তিত হয়ে যায়। এটা অবশ্যই সময় সাপেক্ষ ঠিকই, কিন্তু তাঁদেরকে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে। এর মধ্যে প্রথম হল বাচ্চার অবস্থা ঠিকমত বোঝা ও সেইমত ঠিক কি সাহায্য দরকার তা স্থির করে উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি বা থেরাপির সাহায্য নেওয়া।

·         সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত শিশুর প্রসঙ্গ উত্থাপন করা ও তার যত্ন নেওয়া খুবই কঠিন এবং তা মানুষকে হতবুদ্ধি করলেও সেখানে আশার আল অবশ্যই আছে। আপনি হচ্ছেন আপনার সন্তানের সব থেকে ভাল উকিল ও শ্রেষ্ঠ অবলম্বন। সেরিব্রালপলসির বিষয় জ্ঞান-অর্জন আপনাকে সবরকম ভাবে নিজের সন্তানকে সাহায্য করার জন্য উপযুক্ত করে তুলবে। এই রোগের সাহায্যকারী কোনও দলে যোগ দিলে আপনি যেমন আপনার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে পারবেন, তেমনই তাঁদেরথেকেও অনেক কিছু শিখতেও পারবেন।

·         সেরিব্রাল পলসি উত্তরোত্তর ছড়িয়ে না পড়লেও এই রোগে আক্রান্তরা কোনদিন ও সুস্থ হয় না। একজন মানুষ যিনি এই রোগে ভুগছেন তাঁকে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেদিয়ে যেতে হয় এবং তিনি কিভাবে নিজের সামর্থ্যকে কাজে লাগাতে হয় ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সম্পূর্ণ করতে হয় তাও শিক্ষা লাভ করতে পারেন। এখন অনেক বিকল্প ব্যবস্থা ও সাহায্যকারী যন্ত্র এসে গেছে যা সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত শিশুদের লেখাপড়া সম্পূর্ণ করতে, হবি বা ভালোলাগার কাজ করতে এবং খেলাধুলা এমনকি অবসর বিনোদনেও সহায়তা করতে পারে।

·         প্রাথমিক পর্যায় ধরা পড়ার পর সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত বাচ্চাদের অনেকদূর এগিয়ে যাবার প্রমাণও আছে। একটা বাচ্চা যে হাঁটতে পারত না বা হাঁটতে শেখেনি তাকেও পর্বতারোহণ করতে দেখা গেছে। যে কখনও কথা বলতে পারবে আশা করা হয়নি, সে বা তারাও কথা বলে, বই লিখে তাদের কথাতে ও অভিজ্ঞতা প্রকাশের দ্বারা অন্যদের অনুপ্রাণিত করেছে এরূপও দেখা গেছে।

·         এক্ষেত্রে, বাবা-মা হলেন একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, যাঁরা নিজেদের বাচ্চাকে তার ভালোলাগার জায়গাটা খুঁজে নিয়ে প্রাথমিকভাবে বেঁচে থাকার সব উপকরণ দিয়ে তাকে একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেন।   (সমাপ্ত)


       লেখকঃ ডাঃ বিজন বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট – প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, রূপসা, খুলনা এবং পরিচালক – আদিত্য ক্লিনিক। স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক –দৈনিক সুবর্ণ নিউজ। মোবাঃ ০১৬১১-১৮১৬৫৭।  

Sunday, January 8, 2023

সেরিব্রাল পলসিঃ কারন, প্রতিকার ও চিকিৎসা (২য় পর্ব)

 

সেরিব্রাল পলসিঃ কারন, প্রতিকার ও চিকিৎসা - ১ম পর্বের পর ..................


পরিক্ষা পদ্ধতিঃ যেভাবে সেরিব্রাল পলসি শনাক্ত করা হয় -

·       সেরিব্রাল পলসি নির্ণয়ের কোনও নির্দিষ্ট পরীক্ষা পদ্ধতি নেই। এটা সাধারণত, বাচ্চার চিকিৎসার ইতিহাস ও শারীরিক কিছু পরীক্ষার দ্বারাই নির্ধারিত হয়। যদিও এই রোগের তাড়াতাড়ি নির্ণয় হওয়াটাই কাম্য যাতে বাবা-মাতাঁদের বাচ্চার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করতে পারেন, কিন্তু এইরোগ নির্ধারণে প্রায়শই দেরি হয় যেহেতু এই ভারসাম্যহীনতা নির্ণয় করা অসুবিধা জনক। আবার, অনেক সময় শিশুটির অন্য শারীরিক অসুস্থতা থাকায় প্রথম কয়েক বছরে উপসর্গগুলির পরিবর্তন ঘটে, যার দরুন এই রোগ সঠিক ভাবে চিহ্নিতকরা যায় না। কোনও কোনও ক্ষেত্রে জন্মের প্রথম বছরের মধ্যেই রোগটি ধরা পরে, আবার খুব স্বল্প আক্রান্ত সেরিব্রাল পলসির বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ৩-৪ বছরের আগে রোগ নির্ধারণ করা যায় না।

·   ডাক্তার বাচ্চার অভিব্যক্তি, পেশির গঠন, অঙ্গভঙ্গি, পেশির সঞ্চালন ও অন্যান্য জিনিষ যা বাচ্চার জন্মের প্রথম কয়েক মাস বা বছরের মধ্যে গড়ে ওঠেতার পরীক্ষা করেন। প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা কিছুকিছু পরীক্ষা যেমন, এম আর আই বা সি টি স্ক্যান করতে পরামর্শ দেওয়া হয়ব্রেনের প্রকৃত চিত্র বা অবস্থা জানার জন্য।

·      যদি বাচ্চাটি সময়ের আগেই জন্মগ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে এম আর আই স্ক্যানদ্বারা ব্রেনে কোনও আঘাত আছে কিনা তা বোঝা যায়। কিন্তু এটা প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য যথেষ্ট তাড়াতাড়ি। যদি ডাক্তার বিবেচনা করেন যে শিশুটির সেরিব্রাল পলসি হবার সম্ভাবনা আছে, সেক্ষেত্রে জন্মের একেবারে প্রথম মাসথেকেই পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

আরও কিছু পরীক্ষা করা দরকার হতে পারে সেরিব্রাল পলসির মত উপসর্গ যুক্ত অন্য রোগের সম্ভাবনা দূর করতে।

  • এম আর আই স্ক্যানঃ এখানে রেডিও ও ম্যাগনেটিক তরঙ্গ দ্বারা ব্রেন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
  • আলট্রাসাউন্ড স্ক্যানঃ শব্দ তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় ব্রেনের প্রকৃত চিত্র জানার জন্য।
  • সি টি স্ক্যানঃ একগুচ্ছ এক্স-রে ব্যবহার করে তার দ্বারা কম্পুটারে ব্রেনের ত্রি-মাত্রিক চিত্র বানানো হয়।
  • ইলেক্ট্রোএন্সেফেলোগ্রাম বা ই সি জিঃ ছোট ইলেক্ট্রোড মাথার তালুতে রেখে তার দ্বারা ব্রেন বা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা লক্ষ্য করা।
  • ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাম বা ই এম জিঃ এর দ্বারা পেশির কর্মক্ষমতা  ও পেরিফেরাল নার্ভের কর্মক্ষমতার পরীক্ষা করা হয়।
  • রক্ত পরীক্ষা।

লেখকঃ ডাঃ বিজন বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট – প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, রূপসা, খুলনা এবং পরিচালক – আদিত্য ক্লিনিক। স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক –দৈনিক সুবর্ণ নিউজ। মোবাঃ ০১৬১১-১৮১৬৫৭।  

Wednesday, January 4, 2023

সাধারণ জ্বর (General Fever)- (শেষ পর্ব)

 ২য় পর্বের পর ..................


জ্বর প্রতিরোধের উপায়ঃ

আসলে প্রতিরোধ করাটাই আমাদের দরকার। কেউ সামনে হাঁচি দিলকারো হাতে হয়তো জীবাণু রয়েছে সে হয়তো সেই হাত দিয়ে মুখ ধরলতখন হবে। এই জন্য হ্যান্ড ওয়াশ হলো এক নম্বর। বাইরে থেকে এসে হাত ধুতে হবে। যখনই আমরা আসি বাইরে থেকেএসে হাতটা ধোয়া খুবই দরকার।

আরেকটি হলো যখন আমরা  বড় জায়গায় যাচ্ছিক্লাসেবাসেসে যদি একটু ঢেকে কাশেসেই সর্দি বা শ্বাসের ছিটা যেন বাইরে না যায়রুমাল দিয়ে বা টিস্যু দিয়ে মুখ-নাক ঢেকে রাখে তাহলে জীবাণুটা ছড়ায় না। আর একটি হলোবড়দের খুব সাবধান থাকতে হবে। কারণতারা খুব সহজে আক্রান্ত হতে পারে। এটি থেকে তারা জটিলতায়ও যেতে পারে।

আরেকটি বিষয় রয়েছে ভ্যাকসিন দেওয়া। এটি দিয়েও আমরা রোগ প্রতিরোধ করতে পারি। ফ্লু ভ্যাকসিনও রয়েছে। আমাদের দেশে ফ্লু এর আবহাওয়া তৈরি হয়। ফ্লুটা অবশ্য সারা বছর ধরে হতে পারে। কিন্তু এটার বেশি সময় ধরে প্রবলতা দেখা যায়।

১. কাশি ও সর্দিতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে থাকুন। কাশি কিংবা সর্দি থেকে জীবাণুগুলো বাতাসে ভর করে ছোটে। যদি তার একটি আপনার চোখে কিংবা নাকে এসে পড়েতাহলে কয়েকদিনের মধ্যেই আপনি আক্রান্ত হবেন কাশি কিংবা সর্দিতে।

২. বারবার আপনার হাত দুটি ধুয়ে নিন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঠান্ডা ছড়ায় পরোক্ষ শারীরিক সংস্পর্শে। অর্থাৎ একজন অসুস্থ ব্যক্তির ঠান্ডার জীবাণু নাক থেকে হাতে স্থানান্তরিত হয়। সে যখন কোনো বস্তু স্পর্শ করে তখন হাত থেকে জীবাণু সেই বস্তুতে লেগে যায়। ঠান্ডার জীবাণু জড়বস্তুতে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে

৩. বদ্ধ জায়গায় সতর্ক থাকুন। অফিসঘরগুলোতে বায়ু সঞ্চালন দুর্বল থাকে বলে সেখান থেকে ঠান্ডার ভাইরাসগুলো মিলিয়ে যেতে পারে না। অল্প আর্দ্রতায় শ্লেষ্মাঝিল্লি শুকিয়ে যায়স্বাভাবিকভাবে সেখানে ভাইরাস এসে জুড়ে বসে। তাই অফিসঘরে কিংবা বদ্ধ স্থানে ঠান্ডার ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হলো লবণ-পানির নেসাল স্প্রে ব্যবহার করা।

৪. বেশি করে তরল পান করুন। আপনি যদি বেশি করে তরল পান করেনতাহলে শরীর থেকে জীবাণু দূরীভূত হবে এবং শরীরে জীবাণু আক্রান্ত হওয়ার জন্য যে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল তাও পূরণ হবে। এ সময় দৈনিক কমপক্ষে আট গ্লাস পানিফলের রস কিংবা অন্যান্য ক্যাফেইনমুক্ত তরল খাওয়া উচিত।

৫. নাক ও চোখ বেশি বেশি ঘষবেন না। এক গবেষণায় দেখা গেছেমানুষ প্রতি এক ঘণ্টায় তার নাখ ও চোখ অন্তত তিনবার স্পর্শ করে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেনযদি আপনার এ রকম করতেই হয়তাহলে দয়া করে আঙুলের মাথা দিয়ে চোখ ও নাক ঘষবেন না।

৬. বিছানা ছেড়ে ব্যায়াম করুন। সপ্তাহে তিনবার মুক্ত বাতাসে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটাসাইকেল চালানো কিংবা নাচা আপনার শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগের সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করে।

৭. আপনার রান্নাঘরের সামগ্রী জীবাণুমুক্ত রাখুন। রান্নাঘরের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো স্পঞ্জ ও ডিশব্যাগ। এগুলো ভেজা থাকে বলে এখানে ঠান্ডার জীবাণু বংশ বৃদ্ধি করে। এই জীবাণুকে দূর করার উৎকৃষ্ট উপায় হলো সপ্তাহে দু-তিনবার ডিশওয়াশার দিয়ে এগুলো পরিষ্কার করা।

৮. ভিটামিন ই ও সি খান। এখন বিশ্বাস করা হয় যেভিটামিন ই দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু চর্বি ও তেলজাতীয় খাবারে এটা বেশি থাকে বলে যাঁরা স্বল্প চর্বিযুক্ত খাবারে অভ্যস্ততাঁরা খাবার থেকে ভিটামিন ই খুব একটা বেশি পান না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রতিদিন ১০০-২০০ আইইউ সমৃদ্ধ ভিটামিন ই ট্যাবলেট খান।

৯. অ্যালকোহল পরিহার করুন। অনেকেই ভাবতে পারেনঅ্যালকোহল পান করলে ঠান্ডার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। তবে সত্যিকার অর্থে শারীরিক অন্য অসুবিধার সৃষ্টি করে। ফলে তা পরিহার করাই ভালো।

১০. কাশিকে প্রশমিত করুন। কাশি হলে সেটাকে প্রশমন করার চেষ্টা করুন। এর জন্য দুই ধরনের সিরাপ রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কাশির ওষুধ খেতে পারেন।

১১. প্রতি রাতে চমৎকার ঘুম দিন। চমৎকার একটি ঘুম শরীরের রোগপ্রতিরোধ কোষগুলোর ক্ষমতা বাড়ায়। এক গবেষণায় দেখা গেছেরাতে আট ঘণ্টা চমৎকার ঘুমে জীবাণু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

১২. সঠিক ডি কনজেসট্যান্ট ব্যবহার করুন। নাক বুজে গেলে ডি কনজেসট্যান্ট ড্রপ ও স্প্রে মুখে খাবার ওষুধের চেয়ে দ্রুত আপনার উপসর্গমুক্ত করবে। মুখে খাবার ওষুধ অনেক সময় হৃৎস্পন্দনকে বাড়িয়ে দেয়। ফলে উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হৃদরোগের রোগীরা তা খেতে পারেন না। তবে পরপর তিনদিনের বেশি এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে যেকোনো ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

১৩. গলাব্যথার আরামদায়ক ব্যবস্থা খুঁজুন। এক কাপ পানিতে এক চা চামচ লবণ দিয়ে গড়গড়া করলে ভালো কাজ হয়বলেছেন মিশিগান স্টেটের ডা. মারে। তবে চা ও মধু ভালো কাজ করে। মেডিকেটেড লজেন্সে থাকে মেনথলযা গলার অনুভূতি নাশ করে। প্রকৃতপক্ষে গলাব্যথার কোনো উপকার করে না। তাই গলাব্যথার জন্য লবণ-পানির গড়গড়াই উৎকৃষ্ট।

১৪. প্রাকৃতিক প্রতিষেধক ব্যবহার করুন। তুলসি গাছের পাতা ট্যাবলেট কিংবা ক্যাপসুলের চেয়ে বেশি কার্যকর। প্রাকৃতিক এই প্রতিষেধককে ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করুন। যদি অ্যালার্জি না হয়,তাহলে তুলসির রস খান। ঠান্ডা আপনাকে ছেড়ে যাবে।

১৫. স্বল্প চর্বিযুক্ত মুরগির স্যুপ খান। যেকোনো গরম তরল উপসর্গ নিরসনে সাহায্য করে। তবে মুরগির স্যুপ ঠান্ডায় বিশেষভাবে স্বাচ্ছন্দ্যকর প্রতিক্রিয়া ফেলে বলেছেন ডিউক ইউনিভার্সিটির ভাং গ্রাডিসন। এই স্যুপে থাকে প্রোটিনভিটামিন ও খনিজ।

জ্বর হলে করনীয়ঃ

  • সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিকভাবে বিশ্রামে থাকতে হবে।
  • শরীরে কাঁথাকম্বল ইত্যাদি দেয়া যাবে না এবং হালকা কাপড় পরতে দিতে হবে।
  • ঘরের তাপমাত্রা কমিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। ঘরে এসি থাকলে তা সহনীয় তাপমাত্রায় চালিয়ে দিন আর না থাকলে রোগীকে বাতাস করুন অথবা ফ্যানের নিচে রাখতে হবে।
  • জ্বর বেশি মনে হলে হালকা গরম পানিতে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে তা দিয়ে গা স্পঞ্জ করে বা মুছে দিতে হবে।

             প্রয়োজনে মাথায়  পানি ঢালতে পারেন।

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে দিতে হবে।
  • অন্য কোন ওষুধ নয়জ্বর কম রাখতে শুধুমাত্র প্যারাসিটামল খান। মনে রাখতে হবে জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি না হলে প্যারাসিটামলও খাওয়া যাবে বা।
  • জ্বরের কারণ বের করার জন্য বিশেষ পরীক্ষাগুলো করা এবং সেই মতো ডাক্তারের উপদেশ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া।
  • জ্বর হলে গায়ে তেল মালিশ করা যাবে না
  • ঘরের দরজা-জানালা খোলা রাখতে হবে
  • উন্মুক্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ধুলোমাখা কার্পেটআলো-বাতাসহীন ভ্যাপসা ঘরএমনকি পোষা প্রাণীপাখি বা ফুলগাছের রেণু থেকে দূরে থাকতে হবে
  • বড় একটি পাত্রে ফুটন্ত পানি ঢেলেতাতে মেনথল দিয়ে দিন। তারপর মুখ নিচু করে এবং অবশ্যই খোলা রেখে সেই পানির ভাপ নিন কয়েক মিনিট। দিনে কয়েকবার এই ভাপ নেবেন।

পথ্যঃ

১) স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে 

২) গরম পানিতে লেবুর রস ও মধুর মিশ্রণ খাওয়া যেতে পারে  

৩) প্রচুর পরিমান পানীয় পান করবেনবিশেষ করে পানি এবং সাথে কিছু পরিমাণ চা বা কফি। 

৪) ইউক্যালিপটাস তেল কিনবা  মেনথল এসব ব্যবহারে কিছু সাময়িক উপশম মেলে। বুকে ঘষে কিংবা ফুটন্ত পানিতে দু-এক ফোঁটা দিয়ে তার বাষ্প টানলে নাক পরিষ্কার হয়। 

৫)  ভিটামিন সি এবং জিঙ্ক সম্বৃদ্ধ খাবার খাইতে হবে

জটিলতাঃ

নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, প্যারা-টাইফয়েড, মেনিনজাইটিসমায়োকর্ডিয়াল ইনফেকশনআর্থাইটিসরিউমাটিক ফিভার বা বাতজ্বর, ডেঙ্গুহুপিংকাশি, ম্যালেরিয়াফাইলেরিয়া, একুইট অস্টিওমাইলাইটিসএকুইট গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিসএকুইট হেপাটাইটিস, কোন টিস্যু বা অর্গান এর ক্যান্সারের কারণে, যক্ষ্মা রোগ, প্রস্রাবে ইনফেকশনপ্রস্রাবের নালিতে ইনফেকশনমেয়েদের অ্যান্ডোমেট্রাইটিসসার্ভিসাইটিসউফুরাইটিসসালফিনজাইটিস ছেলেদের প্রস্টেটাইটিসইপিডিডাইমাইটিসঅরকাইটিসঅ্যাজমা, ফুসফুস ফেইলিউর ইত্যাদি।

শিশুর হঠাৎ জ্বর হলে

জ্বর কোনো রোগ নয় এটি রোগের একটি উপসর্গ। জ্বর সাধারণত নানা ধরনের সংক্রমণের কারনে হয়। শিশুদের সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জাআমাশয়হামবসন্ত এবং আরও জটিল কোনো সংক্রমণ যেমন- নিউমোনিয়াম্যালেরিয়ামেনিনজাইটিস ইত্যাদি রোগের লক্ষণ জ্বর দিয়েই প্রকাশ পায়। তাই জ্বরকে কোনভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়।

শিশুর জ্বর হলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো ভালভাবে লক্ষ করুন

  • মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের সংক্রমণের লক্ষণ হচ্ছে ঘাড়ে শক্তভাবসামনে-পেছনে নড়ায় সমস্যা।
  • নিউমোনিয়ার লক্ষণ হচ্ছে কাশি ও শ্বাসকষ্টঘন ঘন শ্বাস নেওয়াবুকের খাঁচা ভেতরে ঢুকে যাওয়াবুকে শব্দ হওয়া ইত্যাদি।
  • হামবসন্ত বা ডেঙ্গু হলে শরীরে দানাদাগফুসকুড়ি ইত্যাদি হতে পারে। কি নাদেখে নিন। আবার ওষুধের প্রতিক্রিয়া বা মারাত্মক অ্যালার্জিতেও ত্বকে এমন দানা হতে পারে।
  • শিশু জ্বর সত্ত্বেও খাওয়া-দাওয়া ও আচরণ স্বাভাবিক করছে কি নাখেয়াল করতে হবে। শিশু যদি দুর্বল হয়ে পড়েঅর্ধচেতন দেখায়শুষ্ক বা পানিশূন্য দেখায়খিঁচুনি হয় অথবা শ্বাসকষ্ট হয়তবে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
  • সাধারণত ভাইরাসজনিত সাধারণ জ্বর কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়। যদি সাত দিনের বেশি স্থায়ী হয়তাহলে তা ম্যালেরিয়াটাইফয়েডডেঙ্গু হেমোরেজিক বা মারাত্মক অন্য কোন রোগের জন্য হতে পারে
  • গা গরম হলেই কিন্তু জ্বর নয়। শিশুর বগলের নিচে থার্মোমিটার তিন থেকে পাঁচ মিনিট রাখার পর দেহের তাপমাত্রা যদি ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হয়তবেই জ্বর আছে বলে ধরে নিতে হবে।

শিশুর হঠাৎ জ্বর হলে কি করবেন?

বড়দের ক্ষেত্রেসাধারণ জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রেজ্বর হলে একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সাধারণত এটিকে বয়স অনুযায়ী ভাগ করা যায়। যে বাচ্চাটা নতুন হলো তার এক রকম জ্বর১ মাস বয়সের বাচ্চার অন্য রকম জ্বর৩ থেকে ৪ বছরের বাচ্চার অন্যরকম আবার একটু বড় বাচ্চাদের ভিন্ন রকম। অল্প দিনের জ্বর হলে একে আমরা সাধারণত ভাইরাল জ্বর বলি। একটু ঠান্ডাকাশির কারনে এমন জ্বর হতে পারে। মাকে মনে রাখতে হবেএটা ভাইরাল জ্বর। জ্বরটা নিয়মিত বিরতিতে মেপে রাখা ভাল। দীর্ঘমেয়াদি না হলেভয়ের কোনো কারণ নেই এটা এমনিতেই কমে যাবে। আবার জ্বর একশ ডিগ্রীর ওপর হলে শিশুকে জ্বর কমানোর ওষুধ খাইয়ে দিতে হবে। জ্বরসর্দি-কাশির ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল খাওয়ানো যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে যদি শিশুর কাশি বা জ্বর না কমে এবং জ্বর চলাকালীন সময়ে যদি আপনার শিশুর বেশি বেশি বমি বা পাতলা পায়খানা হয়খিঁচুনি হয়শরীরে গুটি বা দানা দেখা দেয়অনবরত কাঁদতে থাকেতাহলে দেরি না করে অবশ্যই কোন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।

জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে স্পঞ্জিং করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেপুরো শরীর ভেজা নরম কাপড় অথবা তোয়ালে দিয়ে একটানা কয়েকবার আলতো করে মুছে দিলেই শরীরের তাপমাত্রা বেশ কমে যায় এবং আক্রান্ত রোগী ভালো অনুভব করে। এজন্য স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে। কোনভাবেই খুব ঠাণ্ডা পানি আবার ব্যবহার করা ঠিক হবে না। শিশুদের ক্ষেত্রে পানিতে শিশুটিকে বসিয়ে স্পঞ্জ করা যেতে পারে। বাচ্চাকে বেশি করে পানি খাওয়াবেন। বাচ্চার প্রস্রাব হচ্ছে কি না সেটা খেয়াল করতে হবে। বাচ্চা ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছে কি নাখেয়াল করতে হবে। কারণশিশুরা জ্বরের সময় ঠিকমত খেতে চায় না।


      উপদেশ 

ভাইরাল জ্বরে এন্টিবায়োটিক নয়

হঠাৎই আবহাওয়ার পরিবর্তনেটানা বৃষ্টি হলে ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যায়। আমাদের দেশের বেশিরভাগ যায়গার কন্ডিশন প্রায় একই রকম। হঠাৎ করে আবহাওয়া পরিবর্তন হলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যায় এবং আশে পাশে অবস্থানরত কম শক্তিশালী কিছু জীবানু দিয়ে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। সাধারণত এই জীবানু হয় ভাইরাস। একটি ব্যাপার মনে রাখতে হবেআমরা যেই এন্টিবায়োটিক ঔষধ খাই সেটা কখনোই ভাইরাসের উপর কাজ করে নাএটা কাজ করে ব্যাকটেরিয়ার উপরআবার একেক ধরনের এন্টিবায়োটিক ঔষধ একেক ধরনের ব্যাক্টেরিয়ার উপর কাজ করে। সেজন্যভাইরাল জ্বরে এন্টিবায়োটিক খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

ভাইরাল জ্বরের জন্য এন্টিবায়োটিক খেলে নিম্নলিখিত সমস্যাসমুহ হতে পারেঃ

  • শারীরিক দূর্বলতা স্বাভাবিকের চাইতে অনেক বেশি হতে পারে।
  • এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স তৈরি করতে পারে।
  • সুপারএডেড ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যেতে পারে।

কখন বুঝবেন এটা ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন?

৪ থেকে ৫ দিন পরেও জ্বর কমে না আসলে অথবা শরীর কিছুটা ভালো হওয়ার পরিবর্তে আরও খারাপ হয়ে যাবেএক ধরনের ইনফেকশন এর সাথে নতুন কোন ইনফেকশন দেখা দিলে বুঝতে হবে এটা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। এ ক্ষেত্রে ৭ দিনেও জ্বর কমবে না।

কথায় আছে – রোগ বালাই বলে কয়ে আসে না। কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। যেকোনো অসুখ মারাত্মক আকার ধারণ করার আগে নানা ধরণের উপসর্গ দেখা দেয়। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই সেসব উপসর্গকে গুরুত্ব সহকারে দেখি না। ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো যায় না। অথচ সামান্য একটু সচেতনতাই পারে যেকোনো অসুখ প্রকট আকার ধারণ করার আগে আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে। এ লক্ষে ই হাসপাতাল নিরসল কাজ করে যাচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অসুখের কারণলক্ষন ও প্রতিকার নিয়ে সাধারন মানুষকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আপনি চাইলে আপনার কি অসুখ হয়েছে বা হয়ে থাকতে পারে তা আমাদের ব্লগের রোগ ডিরেক্টরি থেকে বের করতেন। অথবা সরাসরি আমাদের কাছে ফোন করতে পারেন এই সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য। 

জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথা ব্যথাগলা ফুলে যাওয়াঘাড় শক্ত হয়ে আসাআলোর দিকে তাকালে প্রচণ্ড অস্বস্তিবিরতিহীন বমিমেন্টাল কনফিউশনবুকে ব্যথানিঃশ্বাস নিতে অসুবিধাপেটে ব্যথা ও প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এই লক্ষণগুলো থাকলে অবশ্যই রোগীকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।  (সমাপ্ত)

সাধারণ জ্বর (General Fever)- (১ম পর্ব)-এর জন্য ক্লিক করুন। 

সাধারণ জ্বর (General Fever)- (২য় পর্ব)-এর জন্য ক্লিক করুন।


লেখকঃ ডাঃ বিজন বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট – প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, রূপসা, খুলনা এবং পরিচালক – আদিত্য ক্লিনিক। স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক –দৈনিক সুবর্ণ নিউজ। মোবাঃ ০১৬১১-১৮১৬৫৭।  

ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানেমান (হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জনক)

খৃস্টান ফ্রেডরিখ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান   ( জার্মান  :  [ ha ː n ə man ]   10 এপ্রিল  1755 - 2 জুলাই 1843) - ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেড্রিক স্যামুয়...